প্রথম অধ্যায়: আকাইদ ও ইবাদত (৫ম শ্রেণি), পাঠ: ১ মহান আল্লাহ ও তার একত্ববাদ PDF/Doc ইসলাম শিক্ষা by NRG ALFA ZONE
এই পিডিএফে সম্পূর্ণ ফ্রিতে NCTB কর্তৃক প্রদত্ত পাঠ্য বইয়ে দয়া সকল সঠিক উত্তর (MCQ), শূন্যস্থান,ডানপাশ-বামপাশ, শুদ্ধ/অশুদ্ধ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন-উত্তর, বর্ণনামূলক প্রশ্ন-উত্তর খুব সহজ, ছোট ও সাবলীল ভাষায় সাজিয়ে দেওয়া হলো। যদি প্রয়োজনীয় কোনো কিছু দেয়ার প্রয়োজন হয় পিডিএফ বা ডাক ফাইলের নিচে যোগ করতে থাকবো….
PDF ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন অথবা গুগল Doc ফাইল পেতে এখানে ক্লিক করুন।
১. সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন (✔) দাও
(ক) সৃষ্টিজগতের শৃঙ্খলা থেকে আমরা কী বুঝতে পারি? উত্তর: ১. আল্লাহর একত্ববাদ
(খ) তাওহিদ বলতে কী বোঝায়? উত্তর: ২. আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস
(গ) মহান আল্লাহর গুণাবলিতে কাউকে অংশীদার করাকে কী বলা হয়? উত্তর: ৩. শিরক
(ঘ) কোনটি হজের ফরজ? উত্তর: ২. ইহরাম বাঁধা
(ঙ) সালাতে কখন তাশাহহুদ পড়তে হয়? উত্তর: ১. দ্বিতীয় ও শেষ রাকাতে
(চ) দু’আ কুনুত আমাদের কী শেখায়? উত্তর: ২. বিনয় ও আনুগত্য
(ছ) সালাতের ওয়াজিব কয়টি? উত্তর: ৩. ১৪টি
(জ) কোন কাজ করলে রোজা ভেঙ্গে যায়? উত্তর: ৩. ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলে
(ঝ) অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার জন্য আমরা কোন ইবাদত করব? উত্তর: ৪. জাকাত আদায়
(ঞ) হামজা (أ) বর্ণটি কোন স্থান থেকে উচ্চারণ করতে হয়? উত্তর: ৩. কণ্ঠনালির শুরু থেকে
২. শূন্যস্থান পূরণ করো
(ক) এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর আদেশেই সৃষ্টিজগৎ সুশৃঙ্খলভাবে চলে।
(খ) সালাতের ফরজ কাজগুলোকে আহকাম ও আরকান বলে।
(গ) জাকাতের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
(ঘ) সাওম পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা।
(ঙ) কণ্ঠনালির মধ্যভাগ থেকে আইন (ع) উচ্চারণ করতে হয়।
৩. বাম পাশের বাক্যাংশের সাথে ডান পাশ মিলকরণ
| বাম পাশ | ডান পাশ |
| ক. কাউকে আল্লাহর সাথে | সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলে। |
| খ. তাশাহহুদ পাঠ করার মাধ্যমে সালাত আদায়কারী | মহান আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করেন। |
| গ. প্রাপ্তবয়স্ক ও সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর প্রতি | জীবনে একবার হজ করা ফরজ। |
| ঘ. প্রত্যেক ভাষার বর্ণমালার একটি নির্দিষ্ট | উচ্চারণরীতি রয়েছে। |
| ঙ. পবিত্র কুরআন বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াতের জন্য | গুন্নাহ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। |
৪. শুদ্ধ/অশুদ্ধ নির্ণয়
(ক) সালাতে প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব। — শুদ্ধ
(খ) মুনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিজের চাহিদা প্রকাশ করা যায়। — শুদ্ধ
(গ) বিশুদ্ধভাবে কুরআন শেখা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। — অশুদ্ধ (এটি ধর্মীয় দায়িত্ব)
(ঘ) জাকাত আদায়ের মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি লাভ হয়। — শুদ্ধ
(ঙ) হজ অর্থের শুদ্ধিকরণ শেখায়। — অশুদ্ধ (জাকাত অর্থ শুদ্ধ করে)
(চ) হরফের উচ্চারণের স্থানকে মাখরাজ বলে। — শুদ্ধ
৫. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
ক) আমরা সৃষ্টিজগতের শৃঙ্খলা দেখে মহান আল্লাহ সম্পর্কে কী জানতে পারি?
উত্তর: সৃষ্টিজগতের নিখুঁত শৃঙ্খলা দেখে আমরা জানতে পারি যে, এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও মালিক হলেন মহান আল্লাহ। তাঁর ইশারায় সবকিছু নিয়মমতো চলে।
খ) শিরক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে অংশীদার করা বা সমান মনে করাকে শিরক বলে। শিরক করা সবচেয়ে বড় পাপ।
গ) পাঁচটি ইবাদতের নাম লেখো।
উত্তর: পাঁচটি ইবাদতের নাম হলো: ১. সালাত (নামাজ), ২. সাওম (রোজা), ৩. হজ, ৪. জাকাত এবং ৫. কুরবানি।
ঘ) তাজবিদ কেন শিখতে হয়?
উত্তর: পবিত্র কুরআন শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে তিলাওয়াত করার জন্য তাজবিদ শিখতে হয়। তাজবিদ না জানলে কুরআনের অর্থ ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ঙ) হজের দুইটি ফরজের নাম লেখো।
উত্তর: হজের দুইটি ফরজ হলো: ১. ইহরাম বাঁধা এবং ২. ৯ জিলহজ আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা।
চ) আরবি ২৯টি হরফ কয়টি স্থান থেকে উচ্চারিত হয়?
উত্তর: আরবি ২৯টি হরফ মুখের মোট ১৭টি মাখরাজ বা উচ্চারণ স্থান থেকে উচ্চারিত হয়।
ছ) কোন স্থান থেকে ক্বাফ (ق) উচ্চারণ করতে হয়?
উত্তর: জিহ্বার গোড়া তার বরাবর উপরের তালুর সঙ্গে লাগিয়ে ক্বাফ (ق) উচ্চারণ করতে হয়। এটি ৪নং মাখরাজ।
৬. বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর
ক) একই নিয়মে চলে এরূপ পাঁচটি সৃষ্টি সম্পর্কে বর্ণনা করো।
;- মহান আল্লাহর সৃষ্টিজগতে সবকিছুই একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলে। যেমন:
- সূর্য প্রতিদিন পূর্ব দিকে ওঠে এবং পশ্চিম দিকে অস্ত যায়।
- দিনের পর রাত এবং রাতের পর দিন হয়।
- ঋতুগুলো একটার পর একটা নিয়ম করে আসে।
- চাঁদ ও তারা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে আকাশে দেখা দেয়।
- গ্রহগুলো নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে, কখনো নিজেদের মধ্যে ধাক্কা লাগে না।
খ) একত্ববাদের ব্যাখ্যা দাও।
;- মহান আল্লাহ তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে এক ও অদ্বিতীয়, এই বিশ্বাসকেই একত্ববাদ বা তাওহিদ বলে। তিনি আমাদের একমাত্র মাবুদ এবং তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন, বরং সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী।
গ) সাওম-এর তাৎপর্য বর্ণনা করো।
;- সাওম বা রোজার গুরুত্ব নিচে দেওয়া হলো:
- রোজা আমাদের মনে আল্লাহর ভয় তৈরি করে।
- এটি আমাদের মিথ্যা কথা ও সব রকম মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখে।
- না খেয়ে থাকার ফলে ধনীরা গরিবের কষ্ট বুঝতে পারে।
- রোজা আমাদের ধৈর্য ধরতে শেখায়, যার পুরস্কার হলো জান্নাত।
ঘ) জাকাতের গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখো।
জাকাত ইসলামের একটি ফরজ ইবাদত। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার একটি নির্দিষ্ট অংশ গরিবদের দেওয়াকে জাকাত বলে। জাকাত দিলে নিজের সম্পদ পবিত্র ও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সমাজে ধনী-গরিবের বৈষম্য কমে এবং অভাবীদের দুঃখ দূর হয়। এটি সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর করতে সাহায্য করে।
ঙ) হজ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নির্দিষ্ট দিনে পবিত্র কাবা শরিফ ও নির্দিষ্ট স্থানসমূহ জিয়ারত করাকে হজ বলে। সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। হজের মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিমের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে। হজের ফরজ ৩টি এবং ওয়াজিব ৬টি। হজ পালন করলে মানুষ নিষ্পাপ হয়ে যায়।
চ) বাস্তব জীবনে কুরবানির ত্যাগের শিক্ষা সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লেখো।
কুরবানি আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়। এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর খুশির জন্য নিজের প্রিয় জিনিস ছেড়ে দিতে শিখি। এটি আমাদের মনের রাগ ও অহংকার দূর করে। কুরবানির গোশত গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিলে মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দয়া বৃদ্ধি পায়। এক কথায়, কুরবানি আমাদের স্বার্থপরতা ত্যাগ করে মানুষের সেবা করতে শেখায়।
ছ) গুন্নাহর প্রকারভেদের একটি তালিকা তৈরি করো।
গুন্নাহ প্রধানত তিন প্রকার। নিচে এর তালিকা দেওয়া হলো:
১. ওয়াজিব গুন্নাহ: নুন (ن) বা মিম (م) এর ওপর তাশদিদ থাকলে যে গুন্নাহ হয়।
২. মিম সাকিন গুন্নাহ: মিম সাকিনের পর ‘বা’ বা ‘মিম’ আসলে যে গুন্নাহ হয়।
৩. নুন সাকিন ও তানবিন গুন্নাহ: নুন সাকিন বা তানবিনের পর ইখফার হরফ আসলে যে গুন্নাহ হয়।
জ) কুরবানির ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তোমার করণীয় সম্পর্কে লেখো।
কুরবানির শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমার করণীয়গুলো হলো:
১. মনের সব হিংসা ও অহংকার দূর করে একজন ভালো মানুষ হব।
২. আল্লাহর খুশির জন্য নিজের প্রিয় জিনিস ত্যাগ করার মানসিকতা তৈরি করব।
৩. কুরবানির গোশত গরিব, অসহায় ও আত্মীয়দের মাঝে বিলিয়ে দেব।
৪. সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকব এবং অসহায়কে সেবা করব।
৫. নিজের ভেতরের সব খারাপ অভ্যাসগুলো বর্জন করতে চেষ্টা করব।