
হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদ বক্তব্য: সংবিধান কাঁপানো ৫টি বিস্ফোরক বিশ্লেষণ
সংবিধান কি সত্যিই সব সময় চূড়ান্ত? একটি দেশের চরম ক্রান্তিলগ্নে যখন গণঅভ্যুত্থান হয়, তখন লিখিত আইন বড়, নাকি জনতার রায়? এই প্রশ্নটাই এখন অনেকের মনে ঘুরছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক যে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন, তা গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদ বক্তব্য এমন এক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে, যখন বাংলাদেশ একটি নতুন পথরেখা খুঁজছে। সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থর বক্তব্যের সরাসরি পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তিনি সংবিধানের সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক ভণ্ডামি এবং গণঅভ্যুত্থানের জনদাবির কথা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন। সোজা কথায়, তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, সংবিধান মানুষের জন্য তৈরি, মানুষ সংবিধানের জন্য নয়। চলুন, হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদ বক্তব্য থেকে উঠে আসা ৫টি বিস্ফোরক বিশ্লেষণ জেনে নেওয়া যাক। ১. আন্দালিব পার্থর বক্তব্য ও বেগম জিয়ার আদর্শের সংঘাত বক্তব্যের শুরুতেই হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাত্ত্বিক লড়াই শুরু করেন। পার্থ সাহেব তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন যে, যারা সংবিধান ছুঁড়ে ফেলতে চায়, তারা মূলত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। হাসনাত আব্দুল্লাহ এর জবাবে মনে করিয়ে দেন যে, গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজেই বলেছিলেন, “যেদিন জনতার সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন এই সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলা হবে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, ট্রেজারি বেঞ্চের যেসব মন্ত্রীরা এক সময় বেগম জিয়ার সাথে রাজনীতি করেছেন, তারা আজ পার্থ সাহেবের ‘সংবিধান ছুঁড়ে ফেলা মানেই স্বাধীনতাবিরোধী’ তত্ত্বে টেবিল চাপড়ে সমর্থন দিয়ে কি আসলে নিজেদের নেত্রীকেই অপমান করছেন না? এটি বর্তমান রাজনীতির এক চরম স্ববিরোধিতা। ২. সুবিধাবাদী রাজনীতির সমালোচনা আন্দালিব রহমান পার্থর একটি সুনির্দিষ্ট উক্তিকে কোট করে হাসনাত আব্দুল্লাহ সুবিধাবাদী রাজনীতির স্বরূপ উন্মোচন করেন। পার্থ সাহেব বলেছিলেন, তারা ৭২-এর সংবিধানের “কিছু কিছু বিষয়কে” সম্মান দিয়েছেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর বক্তব্যের এক পর্যায়ে তথাকথিত ‘সুবিধাবাদী’ রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বক্তব্যের সূত্র ধরে বলেন, কিছু রাজনীতিক আছেন যারা সংবিধানের শুধু সেই অংশটুকু মানেন যা তাদের পক্ষে যায়। আর যা বিপক্ষে যায়, তা ছুঁড়ে ফেলেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় একটি মোক্ষম কথা বলেছেন: “যারা কখনো কখনো conformist, যারা কখনো কখনো reformist, তারা আসলে opportunist। এখন আমি সংবিধানের কিছু কিছু ধারা মানবো, কিছু কিছু ধারা মানবো না; আমি কখনো কখনো সাংবিধানিক, কখনো কখনো আমি অসাংবিধানিক!” অনেকেই মনে করছেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদ বক্তব্য সুবিধাবাদী রাজনীতির আসল চেহারা জনগণের সামনে উন্মোচন করেছে। আমরা কি সংবিধানকে শুধু নিজেদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করব? এই প্রশ্নটাই এখন সবার মনে। ৩. বেগম জিয়ার মুক্তি: আইনি না জনরায়? অনেকেই আইনের দোহাই দিয়ে সবকিছু বিচার করতে চান। কিন্তু হাসনাত আব্দুল্লাহ এখানে একটি অকাট্য ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে এনেছেন। গত ৬ই আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কি প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় হয়েছিল? একদমই না। বেগম জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। যদি তৎকালীন সংবিধানকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হতো, তবে রাষ্ট্রপতির আদেশে বা নির্বাহী আদেশে তাঁর তাৎক্ষণিক মুক্তি আইনি জটিলতায় পড়ত। হাসনাত আব্দুল্লাহ অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে বলেন, এই সংবিধান যদি গসপেল বা বাইবেলের মতো অপরিবর্তনীয় হতো, তবে সেদিন বেগম জিয়া জেল থেকে বের হতে পারতেন না। তাঁর মুক্তি ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং আপামর জনতার এক ঐতিহাসিক ‘জনরায়’। এই জনরায় কোনো কেতাবি আইনের ধার ধারে না। এটি প্রমাণ করে যে, অভ্যুত্থানের জনরায় যেকোনো লিখিত কাগজের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। ৪. আইনি অসঙ্গতির প্রমাণ ও প্রশ্ন মূলত, হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদ বক্তব্য শুধুমাত্র আবেগের জায়গা থেকে আসেনি, তিনি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম আইনি পয়েন্ট তুলে ধরেছেন, যা বর্তমান সংবিধানের অকার্যকারিতাকে একেবারে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। গত ৬ই আগস্ট যখন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তখন সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল (সংবিধানের ৬৪ নম্বর অনুচ্ছেদ)। অথচ, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ই আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছিলেন। তাহলে প্রশ্ন জাগে— সেদিন কোন প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল? হাসনাত আব্দুল্লাহর এই প্রশ্নই প্রমাণ করে যে, ৫ই আগস্টের পর বিদ্যমান সংবিধানের অনেক ধারাই অকেজো হয়ে পড়েছে। দেশ এখন একটি বিশেষ পরিস্থিতির (Revolutionary Mandate) মধ্য দিয়ে চলছে। তাই সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিপ্লবের চেতনাকে আটকে রাখা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। ৫. ১৭ বছরের ত্যাগ ও রক্তস্নাত পথ “বাংলাদেশ কোনো ভ্যাটিকান সিটি নয় যে এখানে গসপেল অনুযায়ী রাষ্ট্র চলবে।” হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বার্তাটি ছিল মূলত কেতাবি আইনের চেয়ে জনদাবিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের অধিকাংশ জনগণ এই সংবিধানের মৌলিক সংস্কার চায়। পাশাপাশি তিনি গত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, হাজার হাজার নেতাকর্মী ধানক্ষেতে ঘুমিয়েছেন, রিকশা চালিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন। এই অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দলের একক কৃতিত্ব নয়; বরং এটি প্রতিটি মানুষের রক্ত ও ঘামের ফসল। সংবিধান মানুষের জন্য পুরো বক্তব্যের সারমর্ম টানতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ একটি চমৎকার গ্রামীণ প্রবাদের আশ্রয় নেন। তিনি সুবিধাবাদীদের সতর্ক করে বলেন, “গাং পার হইলে মাঝি, কোন দুলাভাই!” অর্থাৎ, বিপদের সময় যারা ছাত্র-জনতার কাঁধে ভর করে নদী পার হয়েছেন, তারা এখন ডাঙ্গায় উঠে যদি বিপ্লবীদের ভুলে যেতে চান, তবে তাদের সেই সুযোগ আর দেওয়া হবে না। পরিশেষে বলা যায়, আলোচিত হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদ বক্তব্য একটি সংসদীয় বক্তৃতার পাশাপাশি ছিল নতুন বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন ‘সামাজিক চুক্তি’ গড়ার সুস্পষ্ট ডাক। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সংবিধান মানুষের জন্য তৈরি করা হয়েছে, মানুষ সংবিধানের জন্য জন্মায়নি। আপনার কী মনে হয়? বর্তমান সংবিধানের আমূল সংস্কার কি সত্যিই সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি? কমেন্ট করে জানান আপনার মতামত! আপনার বন্ধুদের সাথে আর্টিকেলটি শেয়ার করে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করুন। অন্যান্য আর্টিকেল-SSC English Writing: Mega Email GuideTag Questions Class 10 | Rules & Practice GuideEarly Rising Paragraph for SSC Exam: 250 Words with BengaliSSC English 1st Paper Suggestion 2026 | Reading & Writing৫ম শ্রেনির ‘ইসলাম শিক্ষা’ ১ম অধ্যায়: আকাইদ ও ইবাদত এর বৃত্তি ও অন্যান্য পরীক্ষার উপযোগী পাঠভিত্তিক অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর




